১৬টি মহাজনপদ (Mahājanapadas)

ভারতের ইতিহাস: রাজা–শাসনকাল( Emperors And Theirs Period)

গুরুত্বপূর্ণ কবি ও তাঁদের রাজসভা (Court Poet of King)

গ্রন্থ রচয়িতা – সমসাময়িক শাসক (Contemporary Emperors)

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনা একটি জটিল ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। কারণ আধুনিক ইতিহাসচর্চার মতো তখন নিয়মিত ইতিহাস লেখার প্রথা ছিল না। ফলে ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন ধরনের উৎসের উপর নির্ভর করে অতীতকে পুনর্গঠন করতে হয়। এই সমস্ত উৎসকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ ভাগে ভাগ করা যায়—

  1. সাহিত্যিক উপাদান
  2. প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান
  3. বিদেশী পর্যটক ও ঐতিহাসিকদের বিবরণ

এই তিন ধরনের উপাদানের সমন্বয়ের মাধ্যমেই প্রাচীন ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস রচিত হয়।


১. সাহিত্যিক উপাদান (Literary Sources)

সাহিত্যিক উপাদান প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার সবচেয়ে প্রাচীন ও বিস্তৃত উৎস। এগুলি মূলত দেশীয় ও বিদেশী—এই দুই ভাগে বিভক্ত।


(ক) দেশীয় সাহিত্য (Native Literary Sources)

(i) ধর্মীয় ও দার্শনিক সাহিত্য

প্রাচীন ভারতের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ভিত্তি হল ধর্মীয় ও দার্শনিক গ্রন্থসমূহ।

বৈদিক সাহিত্য:
চারটি বেদ—ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ—প্রাচীনতম সাহিত্যিক উৎস। ঋগ্বেদে আর্যদের জীবনযাত্রা, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেবদেবীর ধারণা পাওয়া যায়। সামবেদ মূলত সঙ্গীতভিত্তিক, যজুর্বেদ যজ্ঞ ও বলিদান সংক্রান্ত এবং অথর্ববেদে লোকবিশ্বাস, রোগব্যাধি ও গৃহজীবনের চিত্র পাওয়া যায়।
বেদাঙ্গ—শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ—বৈদিক জ্ঞানকে ব্যাখ্যা ও সংরক্ষণে সাহায্য করে।

উপনিষদ:
উপনিষদে ব্রহ্ম, আত্মা, কর্ম ও মোক্ষ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা পাওয়া যায়, যা ভারতীয় দর্শনের ভিত্তি গড়ে তোলে।

পুরাণ:
১৮টি মহাপুরাণ (যেমন বিষ্ণুপুরাণ, ভাগবতপুরাণ, বায়ুপুরাণ) রাজবংশের তালিকা, সৃষ্টিতত্ত্ব ও যুগব্যবস্থার বিবরণ দেয়। এগুলি থেকে রাজাদের কালানুক্রম ও বংশানুক্রমিক ইতিহাস জানা যায়, যদিও অতিরঞ্জন ও কল্পনার প্রভাব রয়েছে।

মহাকাব্য:
বাল্মীকির রামায়ণ এবং ব্যাসদেব রচিত মহাভারত প্রাচীন ভারতের সমাজ, রাজনীতি, যুদ্ধনীতি, নারীর অবস্থান ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।


(ii) বৌদ্ধ সাহিত্য

বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রিপিটক:
পালি ভাষায় রচিত ত্রিপিটক তিন ভাগে বিভক্ত—

  • বিনয় পিটক: সংঘের নিয়মাবলি
  • সুত্ত পিটক: বুদ্ধের উপদেশ
  • অভিধম্ম পিটক: দার্শনিক বিশ্লেষণ

জাতক কাহিনি:
বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনির মাধ্যমে সমকালীন সমাজ, অর্থনীতি, পেশা ও নগরজীবনের পরিচয় পাওয়া যায়।

দীপবংশ ও মহাবংশ:
শ্রীলঙ্কায় রচিত এই গ্রন্থগুলিতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, অশোক ও মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায়।


(iii) জৈন সাহিত্য

জৈন ধর্মগ্রন্থগুলিও ইতিহাস রচনায় সহায়ক।

আগম বা সিদ্ধান্ত:
প্রাকৃত ভাষায় রচিত এই গ্রন্থগুলি মহাবীরের উপদেশ সংকলন।
ভগবতী সূত্র থেকে ষোড়শ মহাজনপদের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

জৈন জীবনীগ্রন্থ:
হেমচন্দ্রের পরিশিষ্টপর্ব থেকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শেষ জীবন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
কল্পসূত্র-এ মহাবীরের জীবনী লিপিবদ্ধ আছে।


(iv) ঐতিহাসিক জীবনী ও রাজদরবারী সাহিত্য (Charita Literature)

এই গ্রন্থগুলি নির্দিষ্ট রাজা বা বংশের কীর্তি বর্ণনা করে।

  • বাণভট্টের হর্ষচরিত → হর্ষবর্ধনের শাসনকাল
  • সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত → পাল রাজা রামপাল
  • বিলহণের বিক্রমাঙ্কদেবচরিত → চালুক্য রাজা বিক্রমাদিত্য
  • কলহণের রাজতরঙ্গিনী → কাশ্মীরের ধারাবাহিক ইতিহাস

রাজতরঙ্গিনী ভারতীয় ইতিহাসচর্চায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে কালানুক্রম ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়।


(v) রাজনৈতিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ

  • কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র → রাষ্ট্রনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি
  • চরকের চরকসংহিতা ও সুশ্রুতের সুশ্রুতসংহিতা → চিকিৎসাবিজ্ঞান
  • পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী → সংস্কৃত ব্যাকরণ
  • ভরতমুনির নাট্যশাস্ত্র → নাটক, নৃত্য ও সঙ্গীত
  • বাৎসায়নের কামসূত্র → সামাজিক জীবন

২. বিদেশী সাহিত্য ও পর্যটকদের বিবরণ (Foreign Accounts)

বিদেশী লেখকদের বিবরণ প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে একটি বাহ্যিক ও তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।


(ক) গ্রিক ও রোমান লেখক

  • হেরোডোটাস: প্রথম গ্রিক লেখক যিনি ভারতের উল্লেখ করেন।
  • মেগাস্থিনিস: সেলুকাসের দূত হিসেবে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে আসেন। তাঁর ইন্ডিকা গ্রন্থে মৌর্য প্রশাসন, সমাজ ও পাটলিপুত্র নগরের বিবরণ আছে।
  • নিয়ারকোস: আলেকজান্ডারের নৌসেনাপতি; ভারতের উপকূল ও বন্দর বর্ণনা করেন।
  • প্লিনি, টলেমি: রোম-ভারত বাণিজ্যের তথ্য দেন।
  • পেরিপ্লাস অফ দি এরিথ্রিয়ান সি: খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংক্রান্ত গ্রন্থ।

(খ) চীনা পর্যটক

  • ফা-হিয়েন (৫ম শতক): গুপ্ত যুগের সামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনা করেন।
  • হিউয়েন সাং (৭ম শতক): হর্ষবর্ধনের শাসনকাল, বৌদ্ধ শিক্ষা ও নালন্দার বিবরণ দেন। তাঁর সি-ইউ-কি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • ই-ৎসিং: বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য দেন।

(গ) আরব ও মধ্য এশীয় লেখক

  • আল-বেরুনি: তহকিক-ই-হিন্দ গ্রন্থে ভারতের ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান ও সমাজের গভীর বিশ্লেষণ করেন। তাঁকে “ভারততত্ত্বের জনক” বলা হয়।
  • ইবনে বতুতা: দিল্লি সুলতানির প্রশাসন ও সমাজ সম্পর্কে তথ্য দেন।

৩. প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান (Archaeological Sources)

প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সাহিত্যিক তথ্যকে যাচাই ও প্রমাণিত করতে সাহায্য করে।


(ক) লিপি ও প্রশস্তি (Inscriptions)

লিপিতে রাজাদের আদেশ, দান, বিজয় ও প্রশাসনিক তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে।

  • অশোকের শিলালেখ (ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী লিপি)
  • মাস্কি লিপি → যেখানে প্রথম “অশোক” নাম পাওয়া যায়
  • প্রয়াগ প্রশস্তি → সমুদ্রগুপ্তের দিগ্বিজয়
  • আইহোল লিপি → পুলকেশী দ্বিতীয়ের হর্ষবর্ধন পরাজয়
  • হাতিগুম্ফা লিপি → কলিঙ্গ রাজা খারবেল

জেমস প্রিন্সেপ ১৮৩৭ সালে ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন।


(খ) মুদ্রা (Numismatics)

মুদ্রা থেকে অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস জানা যায়।

  • Punch-marked coins → প্রাচীনতম
  • কার্ষাপণ → সর্বাধিক প্রচলিত
  • কুষাণদের স্বর্ণ দীনার
  • গুপ্তদের উৎকৃষ্ট স্বর্ণমুদ্রা

(গ) স্থাপত্য ও ভাস্কর্য

  • সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা
  • মৌর্য স্তম্ভ
  • সাঁচি ও অমরাবতীর স্তূপ
  • অজন্তা ও এলোরার গুহাচিত্র
  • গুপ্ত ও চোল মন্দির স্থাপত্য

উপসংহার

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। সাহিত্যিক উৎস ঘটনাবলী ও ধারণা দেয়, বিদেশী বিবরণ বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান ঐতিহাসিক তথ্যকে প্রমাণ ও যাচাই করে। এই তিন ধরনের উপাদানের সম্মিলিত অধ্যয়নেই প্রাচীন ভারতের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গড়ে ওঠে।


📘 প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান : ৫০টি MCQ


1. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার প্রধান উপাদান কয়টি?

A. ২টি
B. ৩টি
C. ৪টি
D. ৫টি

উত্তর: B (৩টি)


2. নিচের কোনটি সাহিত্যিক উপাদানের অন্তর্গত?

A. মুদ্রা
B. শিলালিপি
C. বেদ
D. স্তূপ

উত্তর: C (বেদ)


3. প্রাচীনতম বৈদিক গ্রন্থ কোনটি?

A. সামবেদ
B. অথর্ববেদ
C. ঋগ্বেদ
D. যজুর্বেদ

উত্তর: C (ঋগ্বেদ)


4. বেদাঙ্গের সংখ্যা কত?

A. ৪
B. ৫
C. ৬
D. ৭

উত্তর: C (৬)


5. কোন বেদে যজ্ঞ সংক্রান্ত বিষয় আছে?

A. ঋগ্বেদ
B. সামবেদ
C. যজুর্বেদ
D. অথর্ববেদ

উত্তর: C (যজুর্বেদ)


6. মহাভারতের রচয়িতা কে?

A. বাল্মীকি
B. কালিদাস
C. ব্যাসদেব
D. ভাস

উত্তর: C (ব্যাসদেব)


7. পুরাণের সংখ্যা কত?

A. ১২
B. ১৬
C. ১৮
D. ২০

উত্তর: C (১৮)


8. বৌদ্ধ ত্রিপিটক কোন ভাষায় রচিত?

A. সংস্কৃত
B. পালি
C. প্রাকৃত
D. তামিল

উত্তর: B (পালি)


9. ত্রিপিটকের কোন পিটকে সংঘের নিয়মাবলি আছে?

A. সুত্ত পিটক
B. অভিধম্ম পিটক
C. বিনয় পিটক
D. জাতক পিটক

উত্তর: C (বিনয় পিটক)


10. জাতক কাহিনিতে কী বিষয় পাওয়া যায়?

A. রাজাদের তালিকা
B. বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনি
C. প্রশাসনিক আইন
D. যুদ্ধ বিবরণ

উত্তর: B


11. ভগবতী সূত্র কোন ধর্মের গ্রন্থ?

A. হিন্দু
B. বৌদ্ধ
C. জৈন
D. শৈব

উত্তর: C (জৈন)


12. ষোড়শ মহাজনপদের তথ্য কোন গ্রন্থ থেকে পাওয়া যায়?

A. ঋগ্বেদ
B. ভগবতী সূত্র
C. জাতক
D. পুরাণ

উত্তর: B


13. ‘হর্ষচরিত’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

A. কালিদাস
B. বাণভট্ট
C. বিলহণ
D. কলহণ

উত্তর: B (বাণভট্ট)


14. ‘রাজতরঙ্গিনী’ কোন অঞ্চলের ইতিহাস?

A. মগধ
B. কাশ্মীর
C. সিন্ধু
D. বঙ্গ

উত্তর: B (কাশ্মীর)


15. ‘রাজতরঙ্গিনী’ রচনা করেন—

A. বিলহণ
B. সন্ধ্যাকর নন্দী
C. কলহণ
D. হেমচন্দ্র

উত্তর: C (কলহণ)


16. কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ কোন বিষয়ের গ্রন্থ?

A. ধর্ম
B. সাহিত্য
C. রাষ্ট্রনীতি
D. জ্যোতিষ

উত্তর: C


17. ‘অষ্টাধ্যায়ী’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

A. পতঞ্জলি
B. পাণিনি
C. ভরতমুনি
D. কালিদাস

উত্তর: B (পাণিনি)


18. নাট্যশাস্ত্রের রচয়িতা—

A. ভাস
B. কালিদাস
C. ভরতমুনি
D. হর্ষ

উত্তর: C


19. ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

A. হেরোডোটাস
B. মেগাস্থিনিস
C. প্লিনি
D. টলেমি

উত্তর: B


20. মেগাস্থিনিস কোন রাজার দরবারে এসেছিলেন?

A. অশোক
B. বিন্দুসার
C. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
D. সমুদ্রগুপ্ত

উত্তর: C


21. ফা-হিয়েন ভারতে এসেছিলেন কোন যুগে?

A. মৌর্য
B. কুষাণ
C. গুপ্ত
D. হর্ষ

উত্তর: C (গুপ্ত)


22. ‘সি-ইউ-কি’ গ্রন্থের রচয়িতা—

A. ফা-হিয়েন
B. ই-ৎসিং
C. হিউয়েন সাং
D. আল-বেরুনি

উত্তর: C


23. হিউয়েন সাং কোন রাজার সমসাময়িক?

A. চন্দ্রগুপ্ত II
B. অশোক
C. হর্ষবর্ধন
D. কনিষ্ক

উত্তর: C


24. ‘তহকিক-ই-হিন্দ’ গ্রন্থটি কার?

A. ইবনে বতুতা
B. আল-বেরুনি
C. সুলেমান
D. আল-মাসুদি

উত্তর: B


25. আল-বেরুনি কোন ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেন?

A. আরবি
B. সংস্কৃত
C. ফারসি
D. পালি

উত্তর: C (ফারসি)


26. প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের অন্তর্গত কোনটি?

A. বেদ
B. পুরাণ
C. শিলালিপি
D. চরিতকাব্য

উত্তর: C


27. অশোকের শিলালিপি প্রধানত কোন লিপিতে লেখা?

A. দেবনাগরী
B. ব্রাহ্মী
C. গ্রিক
D. আরামাইক

উত্তর: B


28. ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধারক কে?

A. কানিংহাম
B. জেমস প্রিন্সেপ
C. মার্শাল
D. হুইলার

উত্তর: B


29. মাস্কি লিপির গুরুত্ব কী?

A. প্রথম সংস্কৃত লিপি
B. প্রথম ব্রাহ্মী লিপি
C. প্রথম ‘অশোক’ নামের উল্লেখ
D. প্রথম তাম্রলিপি

উত্তর: C


30. প্রয়াগ প্রশস্তি কোন রাজার সঙ্গে যুক্ত?

A. চন্দ্রগুপ্ত I
B. সমুদ্রগুপ্ত
C. স্কন্দগুপ্ত
D. হর্ষ

উত্তর: B


31. আইহোল শিলালিপি কার রাজত্বের সঙ্গে যুক্ত?

A. হর্ষবর্ধন
B. পুলকেশী II
C. রাজেন্দ্র চোল
D. ধর্মপাল

উত্তর: B


32. হাতিগুম্ফা লিপি কোন রাজার?

A. অশোক
B. খারবেল
C. সমুদ্রগুপ্ত
D. কনিষ্ক

উত্তর: B


33. মুদ্রা বিষয়ক অধ্যয়নকে কী বলা হয়?

A. এপিগ্রাফি
B. নিউমিসম্যাটিক্স
C. প্যালিওগ্রাফি
D. কার্টোগ্রাফি

উত্তর: B


34. প্রাচীনতম ভারতীয় মুদ্রা—

A. দীনার
B. স্বর্ণমুদ্রা
C. Punch-marked
D. গুপ্ত মুদ্রা

উত্তর: C


35. কার্ষাপণ কী?

A. লিপি
B. যজ্ঞ
C. মুদ্রা
D. কর

উত্তর: C


36. গুপ্ত যুগের মুদ্রা কেন বিখ্যাত?

A. ভারী ওজন
B. শিল্পকলার উৎকর্ষ
C. তামার ব্যবহার
D. বিদেশি ভাষা

উত্তর: B


37. সিন্ধু সভ্যতার তথ্য প্রধানত কোন উৎস থেকে পাওয়া যায়?

A. বেদ
B. পুরাণ
C. প্রত্নতত্ত্ব
D. গ্রিক বিবরণ

উত্তর: C


38. সাঁচি স্তূপ কোন ধর্মের সঙ্গে যুক্ত?

A. হিন্দু
B. জৈন
C. বৌদ্ধ
D. শৈব

উত্তর: C


39. অজন্তা গুহাচিত্র কোন যুগের?

A. মৌর্য
B. গুপ্ত
C. কুষাণ
D. পাল

উত্তর: B


40. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় সবচেয়ে নিরপেক্ষ বিদেশী লেখক—

A. মেগাস্থিনিস
B. ফা-হিয়েন
C. আল-বেরুনি
D. ইবনে বতুতা

উত্তর: C


41. এপিগ্রাফি বলতে বোঝায়—

A. মুদ্রা অধ্যয়ন
B. লিপি অধ্যয়ন
C. ভাষা অধ্যয়ন
D. মানচিত্র অঙ্কন

উত্তর: B


42. খরোষ্ঠী লিপি কোন দিকে লেখা হত?

A. বাম থেকে ডানে
B. ডান থেকে বামে
C. উপর থেকে নিচে
D. নিচ থেকে উপর

উত্তর: B


43. ‘Periplus of the Erythraean Sea’ কোন বিষয়ের গ্রন্থ?

A. ধর্ম
B. প্রশাসন
C. বাণিজ্য
D. যুদ্ধ

উত্তর: C


44. রাজদরবারী সাহিত্য সাধারণত কী বর্ণনা করে?

A. সাধারণ মানুষের জীবন
B. কৃষি ব্যবস্থা
C. রাজার কীর্তি
D. বিজ্ঞান

উত্তর: C


45. জৈন সাহিত্য সাধারণত কোন ভাষায় রচিত?

A. সংস্কৃত
B. পালি
C. প্রাকৃত
D. তামিল

উত্তর: C


46. ‘দীপবংশ’ ও ‘মহাবংশ’ কোথায় রচিত?

A. ভারত
B. চীন
C. শ্রীলঙ্কা
D. তিব্বত

উত্তর: C


47. কোন উৎস থেকে রাজবংশের তালিকা বেশি পাওয়া যায়?

A. বেদ
B. পুরাণ
C. জাতক
D. অর্থশাস্ত্র

উত্তর: B


48. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের গুরুত্ব—

A. সাহিত্য যাচাই
B. কালনিরূপণ
C. প্রমাণ প্রদান
D. উপরের সবকটি

উত্তর: D


49. ‘কামসূত্র’ কোন বিষয়ের গ্রন্থ?

A. রাষ্ট্রনীতি
B. ধর্ম
C. সমাজজীবন
D. যুদ্ধ

উত্তর: C


50. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি—

A. কেবল সাহিত্য
B. কেবল প্রত্নতত্ত্ব
C. কেবল বিদেশী বিবরণ
D. সব উৎসের সমন্বয়

উত্তর: D


🟢 UPSC Prelims PYQ MCQ

বিষয়: প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদান

প্রশ্ন ১। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় কোনটি সাহিত্যিক উৎস নয়? (A) ঋগ্বেদ (B) উপনিষদ (C) শিলালিপি (D) ধর্মসূত্র।

প্রশ্ন ২। ঋগ্বেদে সর্বাধিক প্রশংসিত নদী কোনটি? (A) গঙ্গা (B) যমুনা (C) সরস্বতী (D) নর্মদা।

প্রশ্ন ৩। ‘জাতক কাহিনি’ প্রধানত কোন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত? (A) বৈদিক ধর্ম (B) জৈন ধর্ম (C) বৌদ্ধ ধর্ম (D) শৈব ধর্ম।

প্রশ্ন ৪। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে ‘এপিগ্রাফি’ বলতে কী বোঝায়? (A) মুদ্রা অধ্যয়ন (B) শিলালিপি অধ্যয়ন (C) পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন (D) প্রত্নতত্ত্ব।

প্রশ্ন ৫। ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করা হয়— (A) 1820 সালে (B) 1837 সালে (C) 1858 সালে (D) 1901 সালে।

প্রশ্ন ৬। ছাপযুক্ত (Punch-marked) মুদ্রা সাধারণত কোন যুগের? (A) সিন্ধু সভ্যতা (B) বৈদিক যুগ (C) মহাজনপদ যুগ (D) গুপ্ত যুগ।

প্রশ্ন ৭। অশোকের শিলালিপিতে ব্যবহৃত ভাষা প্রধানত— (A) সংস্কৃত (B) পালি ও প্রাকৃত (C) তামিল (D) গ্রিক।

প্রশ্ন ৮। অশোকের ব্যক্তিগত নাম প্রথম পাওয়া যায় কোন লিপিতে? (A) গিরনার (B) সারনাথ (C) মাস্কি (D) কলসি।

প্রশ্ন ৯। গ্রিক লেখক মেগাস্থিনিস কোন গ্রন্থটি রচনা করেন? (A) ইন্ডিকা (B) পারিপ্লাস (C) সিয়ু-কি (D) আর্থশাস্ত্র।

প্রশ্ন ১০। ‘Periplus of the Erythraean Sea’ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ— (A) বৌদ্ধ দর্শনের জন্য (B) গুপ্ত প্রশাসনের জন্য (C) ভারত–রোম বাণিজ্যের জন্য (D) মৌর্য সামরিক ব্যবস্থার জন্য।

প্রশ্ন ১১। মহেঞ্জোদারোর গ্রেট বাথ ব্যবহৃত হত— (A) রাজকীয় বিনোদনের জন্য (B) জল সংরক্ষণের জন্য (C) ধর্মীয় শুদ্ধিকরণের জন্য (D) সাধারণ স্নানের জন্য।

প্রশ্ন ১২। ভারতে লৌহ ব্যবহারের প্রাচীনতম প্রমাণ পাওয়া যায়— (A) Northern Black Polished Ware সংস্কৃতিতে (B) Painted Grey Ware সংস্কৃতিতে (C) মেগালিথিক সংস্কৃতিতে (D) হরপ্পা সংস্কৃতিতে।

প্রশ্ন ১৩। ধর্মসূত্র ও ধর্মশাস্ত্র প্রধানত কোন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত? (A) প্রশাসন (B) ধর্ম ও সামাজিক বিধান (C) বাণিজ্য (D) শিল্পকলা।

প্রশ্ন ১৪। বিদেশি পর্যটক হিউয়েন সাং ভারতে আসেন— (A) মৌর্য যুগে (B) গুপ্ত যুগে (C) হর্ষবর্ধনের সময়ে (D) পাল যুগে।

প্রশ্ন ১৫। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে ‘Numismatics’ বলতে বোঝায়— (A) লিপি অধ্যয়ন (B) মুদ্রা অধ্যয়ন (C) শিলালিপি অধ্যয়ন (D) জীবাশ্ম অধ্যয়ন।—

✅ উত্তরসূচি (Paragraph Form)

প্রশ্ন ১–এর সঠিক উত্তর C, প্রশ্ন ২–এর C, প্রশ্ন ৩–এর C, প্রশ্ন ৪–এর B, প্রশ্ন ৫–এর B, প্রশ্ন ৬–এর C, প্রশ্ন ৭–এর B, প্রশ্ন ৮–এর C, প্রশ্ন ৯–এর A, প্রশ্ন ১০–এর C, প্রশ্ন ১১–এর C, প্রশ্ন ১২–এর C, প্রশ্ন ১৩–এর B, প্রশ্ন ১৪–এর C এবং প্রশ্ন ১৫–এর B