📘 ভারতের জলসেচ – বিস্তারিত নোটস (WBCS-এর জন্য)
১. ভূমিকা
ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এখানকার কৃষি মূলত মৌসুমি বায়ু (Monsoon) -এর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনিয়মিত ও অসম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃত্রিম জলসেচ অপরিহার্য।
জলসেচ কাকে বলে?
কৃত্রিম উপায়ে জমিতে জল সরবরাহ করার পদ্ধতিকে জলসেচ (Irrigation) বলে।
কেন জলসেচ প্রয়োজনীয়?
| কারণ | বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| অনিয়মিত বৃষ্টিপাত | ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও সময় অনিশ্চিত |
| মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তা | বর্ষা সময়মতো না এলে বা অকালে চলে গেলে ফসল নষ্ট হয় |
| রবি শস্য চাষ | শুষ্ক মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) উৎপাদিত ফসলের জন্য সেচ আবশ্যক |
| উচ্চ ফলনশীল বীজ | হাইব্রিড ফসলের জন্য পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন |
| মাটির গঠন | বেলে ও ল্যাটেরাইট মাটি দ্রুত জল শোষণ করে, তাই ঘন ঘন সেচ প্রয়োজন |
| ফসলের বিভিন্নতা | বিভিন্ন ফসলের বিভিন্ন পরিমাণ জলের প্রয়োজন (যেমন: ধানের জন্য ৯০০-২৫০০ মিমি, গমের জন্য ৪৫-৬৫০ মিমি) |
২. ভারতের জলসেচ পদ্ধতির শ্রেণিবিভাগ
ভারতে প্রধানত তিন ধরনের জলসেচ পদ্ধতি দেখা যায়। নিচে এদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সারসংক্ষেপ টেবিল:
| পদ্ধতি | শতাংশ (প্রায়) | প্রধান অঞ্চল/রাজ্য |
|---|---|---|
| খাল (Canal) | ৪০% | উত্তর ভারতের সমভূমি (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার) |
| কূপ ও নলকূপ (Well & Tubewell) | ৩৮% | সারা ভারত, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, বিহার, গুজরাত |
| জলাশয় (Tank) | ১৮% | উপদ্বীপীয় ভারত (তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক) |
| অন্যান্য | ৪% | ড্রিপ, স্প্রিংকলার ইত্যাদি |
ক) খাল দ্বারা জলসেচ (Canal Irrigation)
বিস্তারিত:
- নদী বা জলাধার থেকে কৃত্রিম খাল কেটে জমিতে জল সরবরাহ করা হয়।
- ভারতের মোট সেচিত এলাকার ৪০% (সর্বাধিক) এই পদ্ধতিতে সেচিত হয়।
প্রধান রাজ্য:
উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, বিহার
খালের প্রকারভেদ:
| প্রকার | বিবরণ |
|---|---|
| পেরেনিয়াল খাল | সারা বছর জল থাকে (যেমন: ভাকরা-নাঙ্গাল খাল) |
| ইনন্ডেশন খাল | শুধু বর্ষাকালে কাজ করে |
সুবিধা:
- বৃহৎ অঞ্চলে সেচ দেওয়া যায়
- নদীর জল ব্যবহার করা হয়
- শুষ্ক অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন সম্ভব হয়
- বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
অসুবিধা:
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে
- মাটির লবণাক্ততা বাড়ে
- নির্মাণ ব্যয় বেশি
- রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সাধ্য
খ) কূপ ও নলকূপ দ্বারা জলসেচ (Well & Tubewell Irrigation)
বিস্তারিত:
- ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করে সেচ দেওয়া হয়
- ভারতের মোট সেচিত এলাকার ৩৮% (দ্বিতীয় সর্বাধিক) এই পদ্ধতিতে সেচিত হয়
প্রধান রাজ্য:
উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার
প্রকারভেদ:
| প্রকার | বিবরণ |
|---|---|
| কূপ | হাত বা পশুচালিত, অগভীর (গড় গভীরতা ১০-১৫ মিটার) |
| নলকূপ | মেশিনচালিত, গভীর (৩০-১০০ মিটার বা তার বেশি) |
সুবিধা:
- কম খরচে সেচ সম্ভব
- কৃষকের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ থাকে
- প্রয়োজনমতো জল ব্যবহার করা যায়
- দ্রুত ও সহজে স্থাপন করা যায়
অসুবিধা:
- ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যায়
- বিদ্যুৎ ও ডিজেলের প্রয়োজন হয়
- অনাবৃষ্টিতে জল পাওয়া কঠিন হয়
গ) জলাশয় দ্বারা জলসেচ (Tank Irrigation)
বিস্তারিত:
- ছোট ছোট বাঁধ বা জলাধার তৈরি করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা হয়
- ভারতের মোট সেচিত এলাকার ১৮% এই পদ্ধতিতে সেচিত হয়
প্রধান রাজ্য:
তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, ওড়িশা
বিশেষ তথ্য: অন্ধ্রপ্রদেশে সর্বাধিক (২৮.৮%) ট্যাংক সেচ দেখা যায়।
সুবিধা:
- কম বৃষ্টিপাত অঞ্চলে কার্যকর
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা যায়
- নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম
- প্রাকৃতিক পদ্ধতি
অসুবিধা:
- গ্রীষ্মে জল শুকিয়ে যায়
- পলি জমে ধারণক্ষমতা কমে যায়
- বড় অঞ্চলে সেচ দেওয়া যায় না
৩. আধুনিক সেচ পদ্ধতি (Modern Irrigation Methods)
সম্প্রতি জল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সেচ পদ্ধতির প্রচলন বাড়ছে।
| পদ্ধতি | বিবরণ | সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|---|---|
| ড্রিপ ইরিগেশন (ফোঁটা সেচ) | পাইপের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় ফোঁটা ফোঁটা করে জল | জলের অপচয় সবচেয়ে কম (৯০% পর্যন্ত সাশ্রয়), আগাছা কম হয় | প্রাথমিক ব্যয় বেশি, ফোঁটা আটকে যেতে পারে |
| স্প্রিংকলার ইরিগেশন (ছিটানো সেচ) | জলকে বৃষ্টির মতো ছিটিয়ে দেওয়া | বালুকাময় ও ঢালু জমির জন্য উপযুক্ত, জলসমতা বজায় থাকে | বাতাসে জল উড়ে যেতে পারে, বিদ্যুৎ খরচ বেশি |
| সাব-সারফেস ইরিগেশন | ভূগর্ভস্থ পাইপের মাধ্যমে গাছের মূল অঞ্চলে জল | বাষ্পীভবন রোধ করে, শুষ্ক অঞ্চলের জন্য ভাল | স্থাপন ব্যয় বেশি |
৪. বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা (Multi-purpose River Valley Projects)
সংজ্ঞা:
যখন একই পরিকল্পনার মাধ্যমে একাধিক উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়, তখন তাকে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা বলে।
উদ্দেশ্যসমূহ:
- জলসেচ (Irrigation)
- জলবিদ্যুৎ উৎপাদন (Hydroelectricity)
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ (Flood Control)
- মৎস্যচাষ (Fisheries)
- নৌপরিবহন (Navigation)
- পর্যটন ও বিনোদন (Tourism)
বিস্তারিত টেবিল: ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বহুমুখী পরিকল্পনা
| ক্রম | পরিকল্পনার নাম | নদী | রাজ্য | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ভাকরা-নাঙ্গাল | শতদ্রু (সতলজ) | পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান | ভারতের উচ্চতম গ্র্যাভিটি বাঁধ (২২৬ মিটার) |
| ২ | হিরাকুদ | মহানদী | ওড়িশা | বিশ্বের দীর্ঘতম মাটির বাঁধ (৪.৮ কিমি) |
| ৩ | দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) | দামোদর | ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ | আমেরিকার TVA-র অনুকরণে নির্মিত |
| ৪ | সর্দার সরোবর | নর্মদা | গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান | নর্মদা নদীর ওপর নির্মিত |
| ৫ | নাগার্জুন সাগর | কৃষ্ণা | তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ | দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রধান প্রকল্প |
| ৬ | তেহরি বাঁধ | ভাগীরথী | উত্তরাখণ্ড | ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ (৮৫৫ ফুট) |
| ৭ | ইন্দিরা গান্ধী ক্যানেল | শতদ্রু | রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা | এশিয়ার দীর্ঘতম ক্যানেল (প্রায় ৬৫০ কিমি) |
| ৮ | তুঙ্গভদ্রা | তুঙ্গভদ্রা | কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ | কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের যৌথ প্রকল্প |
| ৯ | কয়না | কয়না (কৃষ্ণার উপনদী) | মহারাষ্ট্র | মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প |
| ১০ | ময়ূরাক্ষী | ময়ূরাক্ষী | পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড | ‘কানাডা বাঁধ’ নামেও পরিচিত |
| ১১ | কংসাবতী | কংসাবতী | পশ্চিমবঙ্গ | মুকুটমণিপুর বাঁধ উল্লেখযোগ্য |
| ১২ | কোসী | কোসী | বিহার | ‘বিহারের দুঃখ’ নামে পরিচিত |
| ১৩ | গণ্ডক | গণ্ডক | বিহার, উত্তরপ্রদেশ | জলসেচ ও জলবিদ্যুৎ উভয় উদ্দেশ্যে |
| ১৪ | চম্বল | চম্বল | রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ | গান্ধী সাগর, রাণা প্রতাপ সাগর বাঁধ |
| ১৫ | রিহান্ড | রিহান্ড (সোনের উপনদী) | উত্তরপ্রদেশ | গোবিন্দ বল্লভ পন্ত সাগর বাঁধ |
| ১৬ | ফারাক্কা ব্যারেজ | গঙ্গা | পশ্চিমবঙ্গ | হুগলি নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধিই মূল উদ্দেশ্য |
| ১৭ | তিস্তা | তিস্তা | পশ্চিমবঙ্গ | গজলডোবা বাঁধ উল্লেখযোগ্য |
| ১৮ | কাকরাপাড় | তাপ্তী | গুজরাত | জলসেচ প্রধান উদ্দেশ্য |
| ১৯ | উকাই | তাপ্তী | গুজরাত | জলসেচ ও জলবিদ্যুৎ |
| ২০ | নিজামসাগর | মঞ্জিরা (গোদাবরীর উপনদী) | অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা | – |
৫. বাঁধ ও তাদের বৈশিষ্ট্য (বিস্তারিত টেবিল)
| বাঁধ/প্রকল্প | নদী | রাজ্য | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| তেহরি বাঁধ | ভাগীরথী | উত্তরাখণ্ড | ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ (৮৫৫ ফুট) |
| ভাকরা-নাঙ্গাল | শতদ্রু | পাঞ্জাব-হরিয়ানা-রাজস্থান | ভারতের উচ্চতম গ্র্যাভিটি বাঁধ (২২৬ মিটার) |
| হিরাকুদ বাঁধ | মহানদী | ওড়িশা | বিশ্বের দীর্ঘতম মাটির বাঁধ (৪.৮ কিমি) |
| নাগার্জুন সাগর | কৃষ্ণা | তেলেঙ্গানা-অন্ধ্রপ্রদেশ | দক্ষিণ ভারতের বৃহত্তম বাঁধ |
| ইন্দিরা সাগর | নর্মদা | মধ্যপ্রদেশ | ভারতের বৃহত্তম জলাধার |
| মেতুর বাঁধ | কাবেরী | তামিলনাড়ু | কাবেরী নদীর ওপর প্রধান বাঁধ |
| মাইথন বাঁধ | দামোদর | ঝাড়খণ্ড | DVC-র অন্তর্গত |
| পাঞ্চেত বাঁধ | দামোদর | ঝাড়খণ্ড | DVC-র অন্তর্গত |
| তিলাইয়া বাঁধ | দামোদর | ঝাড়খণ্ড | DVC-র অন্তর্গত |
| কোনার বাঁধ | দামোদর | ঝাড়খণ্ড | DVC-র অন্তর্গত |
৬. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সারসংক্ষেপ টেবিল (MCQ জন্য)
| বিষয় | উত্তর |
|---|---|
| ভারতের বৃহত্তম সেচের উৎস | খাল (৪০%) |
| ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচের উৎস | কূপ ও নলকূপ (৩৮%) |
| ট্যাংক সেচের শীর্ষ রাজ্য | অন্ধ্রপ্রদেশ (২৮.৮%) |
| খাল সেচের শীর্ষ রাজ্য | উত্তরপ্রদেশ |
| কূপ সেচের শীর্ষ রাজ্য | উত্তরপ্রদেশ |
| এশিয়ার দীর্ঘতম খাল | ইন্দিরা গান্ধী ক্যানেল (রাজস্থান) |
| ভারতের দীর্ঘতম বাঁধ | হিরাকুদ (ওড়িশা) |
| ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ | তেহরি (উত্তরাখণ্ড) |
| ভারতের উচ্চতম গ্র্যাভিটি বাঁধ | ভাকরা-নাঙ্গাল |
| ভারতের বৃহত্তম নদী পরিকল্পনা | ভাকরা-নাঙ্গাল |
| ‘বাংলার দুঃখ’ নামে পরিচিত নদী | দামোদর |
| ‘বিহারের দুঃখ’ নামে পরিচিত নদী | কোসী |
| ‘দক্ষিণ গঙ্গা’ নামে পরিচিত নদী | গোদাবরী |
| ভারতের জাতীয় নদী | গঙ্গা |
| দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনার আদর্শ | টেনেসি ভ্যালি প্রোজেক্ট (TVA), আমেরিকা |
| ফারাক্কা ব্যারেজের প্রধান উদ্দেশ্য | হুগলি নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধি |
| কাবেরী নদীর জল নিয়ে বিরোধ | কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু |
| ভারত-বাংলাদেশ জলবণ্টন বিরোধের কারণ | ফারাক্কা ব্যারেজ |
| ভারতের কৃষি কাজে মোট জলের ব্যবহার | প্রায় ৯২% |
| সর্বপ্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা | দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC), ১৯৪৮ |
| প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা (PMKSY) | ২০১৫ সালে চালু, ‘প্রতি ফোঁটা বেশি ফসল’ |
৭. বিস্তারিত MCQ (PYQ ফরম্যাটে) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: ভারতের বৃহত্তম সেচের উৎস কোনটি?
- (A) কূপ ও নলকূপ
- (B) খাল
- (C) জলাশয়
- (D) নদী
✅ উত্তর: (B) খাল
প্রশ্ন ২: ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচের উৎস কোনটি?
- (A) খাল
- (B) কূপ ও নলকূপ
- (C) জলাশয়
- (D) ড্রিপ ইরিগেশন
✅ উত্তর: (B) কূপ ও নলকূপ
প্রশ্ন ৩: ভারতের দীর্ঘতম বাঁধ কোনটি?
- (A) ভাকরা-নাঙ্গাল
- (B) হিরাকুদ
- (C) তেহরি
- (D) নাগার্জুন সাগর
✅ উত্তর: (B) হিরাকুদ
প্রশ্ন ৪: ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ কোনটি?
- (A) ভাকরা-নাঙ্গাল
- (B) হিরাকুদ
- (C) তেহরি
- (D) সর্দার সরোবর
✅ উত্তর: (C) তেহরি
প্রশ্ন ৫: ভারতের উচ্চতম গ্র্যাভিটি বাঁধ কোনটি?
- (A) হিরাকুদ
- (B) ভাকরা-নাঙ্গাল
- (C) তেহরি
- (D) নাগার্জুন সাগর
✅ উত্তর: (B) ভাকরা-নাঙ্গাল
প্রশ্ন ৬: দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা কোন প্রকল্পের অনুকরণে গড়ে উঠেছে?
- (A) লিনা প্রোজেক্ট
- (B) টেনেসি ভ্যালি প্রোজেক্ট
- (C) আমাজন উপত্যকা প্রোজেক্ট
- (D) হোয়াংহো প্রোজেক্ট
✅ উত্তর: (B) টেনেসি ভ্যালি প্রোজেক্ট
প্রশ্ন ৭: নাগার্জুন সাগর বহুমুখী প্রকল্পের বাঁধ কোন নদীর উপর অবস্থিত?
- (A) কাবেরী
- (B) কৃষ্ণা
- (C) গোদাবরী
- (D) মহানদী
✅ উত্তর: (B) কৃষ্ণা
প্রশ্ন ৮: ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
- (A) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন
- (B) হুগলি নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধি
- (C) কৃষিক্ষেত্রে জল সরবরাহ
- (D) বন্যা নিয়ন্ত্রণ
✅ উত্তর: (B) হুগলি নদীর জলপ্রবাহ বৃদ্ধি
প্রশ্ন ৯: কাবেরী নদীর জল নিয়ে কোন দুটি রাজ্যের মধ্যে বিরোধ রয়েছে?
- (A) কর্ণাটক – তামিলনাড়ু
- (B) কর্ণাটক – কেরল
- (C) কর্ণাটক – অন্ধ্রপ্রদেশ
- (D) অন্ধ্রপ্রদেশ – তামিলনাড়ু
✅ উত্তর: (A) কর্ণাটক – তামিলনাড়ু
প্রশ্ন ১০: এশিয়ার দীর্ঘতম খাল কোনটি?
- (A) গ্র্যান্ড ক্যানাল
- (B) ইন্দিরা গান্ধী ক্যানেল
- (C) ভাকরা-নাঙ্গাল খাল
- (D) সর্দার সরোবর খাল
✅ উত্তর: (B) ইন্দিরা গান্ধী ক্যানেল
প্রশ্ন ১১: ‘বাংলার দুঃখ’ নামে পরিচিত নদী কোনটি?
- (A) কোসী
- (B) দামোদর
- (C) মহানদী
- (D) গণ্ডক
✅ উত্তর: (B) দামোদর
প্রশ্ন ১২: ‘বিহারের দুঃখ’ নামে পরিচিত নদী কোনটি?
- (A) দামোদর
- (B) কোসী
- (C) গণ্ডক
- (D) সোন
✅ উত্তর: (B) কোসী
প্রশ্ন ১৩: ‘দক্ষিণ গঙ্গা’ নামে পরিচিত নদী কোনটি?
- (A) কাবেরী
- (B) কৃষ্ণা
- (C) গোদাবরী
- (D) মহানদী
✅ উত্তর: (C) গোদাবরী
প্রশ্ন ১৪: ভারতের জাতীয় নদী কোনটি?
- (A) যমুনা
- (B) গঙ্গা
- (C) ব্রহ্মপুত্র
- (D) সিন্ধু
✅ উত্তর: (B) গঙ্গা
প্রশ্ন ১৫: ট্যাংক সেচে সর্বাধিক সেচ হয় কোন রাজ্যে?
- (A) তামিলনাড়ু
- (B) অন্ধ্রপ্রদেশ
- (C) কর্ণাটক
- (D) ওড়িশা
✅ উত্তর: (B) অন্ধ্রপ্রদেশ
প্রশ্ন ১৬: খাল সেচে সর্বাধিক সেচ হয় কোন রাজ্যে?
- (A) পাঞ্জাব
- (B) হরিয়ানা
- (C) উত্তরপ্রদেশ
- (D) পশ্চিমবঙ্গ
✅ উত্তর: (C) উত্তরপ্রদেশ
প্রশ্ন ১৭: কূপ ও নলকূপ সেচে সর্বাধিক সেচ হয় কোন রাজ্যে?
- (A) পাঞ্জাব
- (B) উত্তরপ্রদেশ
- (C) বিহার
- (D) গুজরাত
✅ উত্তর: (B) উত্তরপ্রদেশ
প্রশ্ন ১৮: ভারতের কৃষি কাজে মোট জলের কত শতাংশ ব্যবহার করা হয়?
- (A) ৭০%
- (B) ৮০%
- (C) ৯২%
- (D) ৯৮%
✅ উত্তর: (C) ৯২%
প্রশ্ন ১৯: সর্বপ্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কোনটি?
- (A) ভাকরা-নাঙ্গাল
- (B) হিরাকুদ
- (C) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)
- (D) সর্দার সরোবর
✅ উত্তর: (C) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) – ১৯৪৮
প্রশ্ন ২০: প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা (PMKSY) কবে চালু হয়?
- (A) ২০১০
- (B) ২০১২
- (C) ২০১৪
- (D) ২০১৫
✅ উত্তর: (D) ২০১৫
প্রশ্ন ২১: ‘প্রতি ফোঁটা বেশি ফসল’ নীতি কোন প্রকল্পের?
- (A) নাগার্জুন সাগর
- (B) প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা (PMKSY)
- (C) ভাকরা-নাঙ্গাল
- (D) সর্দার সরোবর
✅ উত্তর: (B) প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা (PMKSY)
প্রশ্ন ২২: ভারত-বাংলাদেশ জলবণ্টন বিরোধের কারণ কোনটি?
- (A) তিস্তা ব্যারেজ
- (B) ফারাক্কা ব্যারেজ
- (C) ময়ূরাক্ষী বাঁধ
- (D) কংসাবতী বাঁধ
✅ উত্তর: (B) ফারাক্কা ব্যারেজ
প্রশ্ন ২৩: মেতুর বাঁধ কোন নদীর উপর অবস্থিত?
- (A) কাবেরী
- (B) কৃষ্ণা
- (C) গোদাবরী
- (D) মহানদী
✅ উত্তর: (A) কাবেরী
প্রশ্ন ২৪: আলমাত্তি বাঁধ কোন নদীর উপর অবস্থিত?
- (A) কাবেরী
- (B) কৃষ্ণা
- (C) গোদাবরী
- (D) নর্মদা
✅ উত্তর: (B) কৃষ্ণা
প্রশ্ন ২৫: ভারতের বৃহত্তম জলাধার কোনটি?
- (A) ভাকরা
- (B) হিরাকুদ
- (C) ইন্দিরা সাগর
- (D) তেহরি
✅ উত্তর: (C) ইন্দিরা সাগর
প্রশ্ন ২৬: DVC-র অন্তর্গত বাঁধ কোনটি নয়?
- (A) মাইথন
- (B) পাঞ্চেত
- (C) তিলাইয়া
- (D) হিরাকুদ
✅ উত্তর: (D) হিরাকুদ
প্রশ্ন ২৭: ‘কানাডা বাঁধ’ নামে পরিচিত কোন প্রকল্প?
- (A) কংসাবতী
- (B) ময়ূরাক্ষী
- (C) দামোদর
- (D) তিস্তা
✅ উত্তর: (B) ময়ূরাক্ষী
প্রশ্ন ২৮: ভারতে সবচেয়ে বেশি জল সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি কোনটি?
- (A) খাল সেচ
- (B) কূপ সেচ
- (C) ড্রিপ ইরিগেশন
- (D) স্প্রিংকলার ইরিগেশন
✅ উত্তর: (C) ড্রিপ ইরিগেশন
প্রশ্ন ২৯: ভারতের উপদ্বীপীয় অঞ্চলের মুখ্য জলসেচ ব্যবস্থা কী?
- (A) খাল
- (B) পুকুর/জলাশয়
- (C) কূপ
- (D) স্প্রিংকলার
✅ উত্তর: (B) পুকুর/জলাশয়
প্রশ্ন ৩০: ভারতে জলসেচের সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে কোন রাজ্যে?
- (A) পাঞ্জাব
- (B) হরিয়ানা
- (C) উত্তরপ্রদেশ
- (D) পশ্চিমবঙ্গ
✅ উত্তর: (B) হরিয়ানা
৮. কিছু অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ভারতে মোট সেচিত এলাকা | প্রায় ৯০ মিলিয়ন হেক্টর |
| বিশ্বে সেচিত এলাকার দিক থেকে ভারতের স্থান | দ্বিতীয় (চীনের পর) |
| খালের দৈর্ঘ্যে বিশ্বে ভারতের স্থান | প্রথম (প্রায় ২,০০,০০০ কিমি) |
| ভারতের গভীরতম নদী | ব্রহ্মপুত্র |
| ভারতের দীর্ঘতম নদী | ব্রহ্মপুত্র (২,৯০০ কিমি) |
💡 WBCS পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস
- প্রতিটি বাঁধ ও নদীর রাজ্য মুখস্থ করুন – WBCS-তে বহুবার এসেছে।
- উপাধিগুলি (দক্ষিণ গঙ্গা, বাংলার দুঃখ ইত্যাদি) আলাদা টেবিল করে রাখুন।
- সেচের শতাংশ (৪০%, ৩৮%, ১৮%) নির্ভুলভাবে মনে রাখুন।
- PYQ-তে আসা প্রশ্নগুলি (উপরে দেওয়া) বারবার অনুশীলন করুন।
- আধুনিক সেচ পদ্ধতি (ড্রিপ, স্প্রিংকলার) সম্পর্কে জানুন।
